Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / বরফ ছোঁয়া বাতাস আসছে বাংলায়

বরফ ছোঁয়া বাতাস আসছে বাংলায়

Loading...

রবিবার ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমেছিল কলকাতার তাপমাত্রা৷ সোমবার তাপমাত্রা আবার ১৫ ডিগ্রির উপরে৷ ঠান্ডা হাওয়া নেই৷ চড়া রোদ গায়ে চিড়বিড়ানি ধরাচ্ছে৷ সামান্য পরিশ্রমেই জামা ভিজছে ঘামে৷ আবহবিদরা কিন্ত্ত সাবধান করছেন, প্রকৃতির খেয়ালে ভুলে গরম জামাকাপড়, লেপ-কম্বল দেরাজে তুলে ফেলবেন না৷ তা হলেই বিপদ৷ আর তিন রাত পেরোলেই কনকনে হাওয়া হাজির হয়ে যাবে বাংলায়৷ কাঁপুনি ধরাবে হাড়ে৷ পৌষ-মাঘের সন্ধিক্ষণই হবে চলতি মরসুমের শীতলতম অধ্যায়৷

আসলে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার ক্যাচলাইন এমনই৷ শৈত্যের জন্য উষ্ণতা চাই৷ প্রথমে ঝঞ্ধা ঢুকে জলীয় বাষ্প টেনে উত্তুরে হাওয়ার গতিপথে পাঁচিল হয়ে দাঁড়াবে৷ তার পর তুষারপাত ঘটিয়ে সরে যাবে ঠান্ডা বাতাসকে জায়গা করে দিয়ে৷ এখন যেমন কাশ্মীর-হিমাচলে প্রবল তুষারপাত দেওয়া ঝঞ্ধাটি ক্রমে পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে৷ কিন্ত্ত তার প্রভাবে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্ত এখনও রয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রদেশের উপর৷ ফলে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে হিমেল হাওয়ার দাপটে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও পুবের তল্লাটে উলটপুরাণ৷ এ দিন আলিপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৫.৫ ডিগ্রি৷ আজ, মঙ্গলবার তা আরও কিছুটা বাড়তে পারে৷ পারদের ঊর্ধ্বগতি জারি থাকবে বুধবারও৷ নিম্নচাপ অক্ষরেখা, ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ঢোকা জলীয় বাষ্পের হাত ধরে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া রাজ্যের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে হাল্কা বৃষ্টিও হতে পারে৷ এই বৃষ্টিই জাঁকিয়ে শীতের পথ খুলে দিতে পারে জলীয় বাষ্প সাফ করে৷ আবহবিদরাও তাই ইঙ্গিত দিচ্ছেন, বুধবার রাত থেকে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে৷ ঢুকে পড়বে কনকনে বাতাস৷ যার প্রভাব পড়বে বৃহস্পতিবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায়৷ ওই দিনই স্বাভাবিকের নীচে নেমে যেতে পারে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা৷ শুক্র বা শনিবার পারা ১১ ডিগ্রিতেও নেমে যেতে পারে৷ ৮-৯ ডিগ্রিতে নেমে যেতে পারে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির তাপমাত্রা৷ এই দফায় অন্তত রবিবার পর্যন্ত কড়া ঠান্ডা বজায় থাকবে, আশ্বাস আবহবিদদের৷ তার পর আবার তাপমাত্রা বাড়তে পারে৷ সে সময় আর এক ঝঞ্ধা আসার কথা৷

অবশ্য আপাতত সপ্তাহান্তের সম্ভাব্য জমাটি শীতের দিকেই যাবতীয় নজর৷ কারণ, চলতি মরসুমে শীত শুরু থেকেই লুকোচুরি খেলছে৷ বেশিরভাগই সময়েই তাকে ধরা যায়নি৷ ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সাড়া জাগিয়ে ১২.৭ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছিল আলিপুরের পারদ৷ শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছিল বীরভূমের শ্রীনিকেতন৷ ওই পর্যন্তই৷ তার পর পারদের সাপ-লুডো খেলায় বারবার মই-এর চড়াই ধরেছে শীত৷ যার জেরে বড়দিন এবং বর্ষবরণের উত্‍সব কেটেছে ‘উষ্ণতা’র আবহে৷ এই প্রথম আশ্বাস মিলেছে জাঁকিয়ে শীতের অনুভূতি পাওয়ার৷ যার প্রেক্ষাপটে অবশ্যই শক্তিশালী পশ্চিমি ঝঞ্ধা৷ কাশ্মীরে ঢোকার আগে জোড়া ঝঞ্ধা এক হয়ে এতটাই জোরালো হয়ে উঠেছিল যে, কাশ্মীর থেকে হিমাচল হয়ে উত্তরাখণ্ড- প্রবল তুষারপাতে বিপর্যস্ত জনজীবন৷ সিমলা যে ভাবে পুরু বরফে ডেকে গিয়েছে, তা ইদানীংকালে দেখা যায়নি৷ ঝঞ্ধা সরে যাওয়ায় সেখানে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে৷ ফলে জোর বাড়ছে উত্তুরে হাওয়ার৷ যা এ বার সমতলে নেমে আসতে শুরু করেছে৷ মধ্য ভারতের ঘূর্ণাবর্তটি দ্রুত দুর্বল হয়ে যাবে৷ তার জায়গা নেবে উচ্চচাপ বলয়৷ যেটি পাহাড়ের বরফছোঁয়া বাতাস টেনে পাঠিয়ে দেবে পূর্ব ভারতে৷ বিহার-ঝাড়খণ্ড হয়ে যা ঢুকে পড়বে বাংলার অন্দরেও৷

আবহবিদদের পূর্বাভাস সত্যি হলে শখ মিটিয়ে শীত উপভোগ করতে পারবেন আমজনতা৷ গরম জামাকাপড় গায়ে চাপানোর আগে দু’বার ভাবতে হবে না৷ নিশ্চিন্তে নেওয়া যাবে লেপের ওম কিংবা কাঠ জ্বালিয়ে হাত-পা গরম করে নেওয়ার সুযোগ৷ শীতমাখা সংক্রান্তি, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে!

Loading...

About admin

Check Also

পেনিস উৎসবে জাপানি মেয়েরা যা করে দেখলে অবাক হবেন ! (ভিডিও)

Loading... vপেনিস উৎসবে জাপানি মেয়েরা যা করে দেখলে অবাক হবেন ! (ভিডিও) Loading...