Breaking News
Home / রাজনীতি / তৃষা ও শিলার তথ্যে সাত জঙ্গি গ্রেফতারে অভিযান

তৃষা ও শিলার তথ্যে সাত জঙ্গি গ্রেফতারে অভিযান

Loading...

আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় আত্মসমর্পণ করা দুই নারী জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে জানা গেছে নব্য জেএমবির বর্তমান সমন্বয়ক মইনুল

ইসলাম ওরফে আবু মুসাসহ কমপক্ষে সাত নেতার নাম। এসব নেতাকে গ্রেফতারের জন্য রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, সাভার ও আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। আশকোনার সূর্যভিলায় অভিযানের খবরের আগেই ওইসব আস্তানা ছেড়ে পালিয়ে গেছে জঙ্গিরা।

এদিকে অপারেশন রিপল টোয়েন্টিফোরে আত্মসমর্পণ করা তৃষা মনি ওরফে আয়েশা ও জেবুন্নাহার শিলা ওরফে সুমাইয়া ওরফে মারজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার সাত দিনের রিমান্ড হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সূর্যভিলায় অভিযান শেষে রোববার রাতে দক্ষিণখান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চান সিটির পরিদর্শক সাইদুর রহমান। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মেহের নিগার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তৃষা ও শিলাকে আদালতে হাজির করার সময় তাদের কোলে ছিল ৪ মাস ও ১৬ মাস বয়সী দুই শিশু। এ দুই শিশু হচ্ছে শিলার দেড় বছরের মেয়ে মারিয়াম বিনতে জাহিদ ও তৃষার চার মাসের শিশু জুয়াইরিয়া। আদালত আগামী ১৭ জানুয়ারি দক্ষিণখান থানায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট সূত্র জানায়, দক্ষিণখান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ৮ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। তারা হচ্ছে জঙ্গি মইনুল ইসলাম ওরফে মুসার স্ত্রী তৃষা মনি, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ওরফে সুমাইয়া ওরফে মারজান, জঙ্গি রাশেদুর রহমান সুমনের স্ত্রী শাকিলা ওরফে তাহিরা, আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত তানভীর কাদেরীর ছেলে আফিফ কাদেরী ওরফে আদর, মইনুল ইসলাম ওরফে আবু মুসা, রাসেদুর রহমান সুমন, সেলিম ও ফিরোজ। আসামিদের মধ্যে সুমন ডাকাতির মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে আছে। শাকিলা ওরফে তাহিরা সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মারা গেছে। অভিযানকালে গোলাগুলিতে আদরের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুলশান হামলায় অস্ত্র সরবরাহকারী মিজান, সাগর ও সোহেল মাহফুজসহ আরও কয়েকজনের সূর্যভিলায় যাতায়াত ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। এসব জঙ্গিকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সিটি ইউনিটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, দুর্ধর্ষ জঙ্গি আবু মুসা অভিযানকালে বিশেষ অ্যাপস ব্যবহার করে তার স্ত্রীকে ধরা না দেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। প্রয়োজনে আত্মঘাতী হয়েও এ সরকারের পুলিশের হাতে ধরা না দিতে স্ত্রী তৃষা মনিকে নির্দেশ দিয়েছিল মুসা। কিন্তু ৪ মাস বয়সী সন্তানের মায়ায় মুসার স্ত্রী পুলিশের হাতে ধরা দেয়। এর আগে সে চিরকুট পাঠিয়ে বলে ‘বেঁচে থাকার সুযোগ দিলে অনেক তথ্য দেব।’

জিজ্ঞাসাবাদে তৃষা আরও জানিয়েছে, মুসা তার দূরসম্পর্কের খালাতো ভাই। ২০১৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। তৃষার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে। সে এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। স্বামী মুসার উৎসাহে জঙ্গিবাদের দীক্ষা নেয় ও স্বামীর সঙ্গে গৃহত্যাগী হয়। মুসা ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স পাস করে উত্তরার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করত। মেজর (অব.) জাহিদ, তানভীর কাদেরী ও মুসা প্রায় একই সময় নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়েছিল। তৃষা আরও জানিয়েছে, তার স্বামী মুসা রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার বুজরতকোলা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার সঙ্গে তার যোগসাজশ ছিল। এছাড়া তৃষা গুলশান হামলার অস্ত্র সরবরাহকারী মিজান, সাগর, সোহেল মাহফুজ ও জঙ্গি নেতা বাসারুজ্জামান সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছে। তাদের বাড়ি বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে হওয়ায় শিলা আগে থেকেই তাদের চিনত।

শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানের সময় সুইসাইডাল ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নারী জঙ্গি শাকিলা ওরফে তাহিরা ও পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে কিশোর জঙ্গি আদর নিহত হয়।

গুলিতেই আদরের মৃত্যু : কিশোর জঙ্গি আদরের লাশের ময়নাতদন্ত সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, গুলিতেই তার মৃত্যু হয়। তার শরীর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শরীরে কয়েকটি গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। শরীরের কোথাও স্পি­ন্টারের চিহ্ন দেখা যায়নি। আদরের শরীর থেকে রাখা হয়েছে ডিএনএ নমুনা। এছাড়া ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা রাখা হয়েছে। আদর গত সেপ্টেম্বরে আজিমপুরের আস্তানায় অভিযানের সময় নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরী ওরফে শিপারের ছেলে। শাকিলা সুইসাইড ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় গুরুতর আহত হওয়া তার ৭ বছরের মেয়ে সামিনা ওরফে আফিফা গুরুতর জখম হয়। সামিনাকে ঘটনার দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

সূর্যভিলায় ফের আলামত সংগ্রহ : সূর্যভিলা জঙ্গি আস্তানা থেকে সোমবার দ্বিতীয়বারের মতো আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। আলামত হিসেবে তারা পোড়া ল্যাপটপ, জঙ্গিদের লিফলেট, দুটি নাইন এমএম পিস্তল, গুলি, গুলির খোসা সংগ্রহ করে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এ আলামত সংগ্রহের কাজ করেন সিআইডি।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুস সালামের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। আলামত সংগ্রহ শেষে আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, জঙ্গি আস্তানা থেকে অস্ত্র, গুলি, পোড়া ল্যাপটপ, লিফলেট ও কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। আলামতের একটি অংশ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাকি আলামত দক্ষিণখান থানা পুলিশকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে মামলার আলামত হিসেবে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৭টি গ্রেনেড উদ্ধার করে। উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এক রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিনসহ নাইন এমএম পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিনসহ একটি আমেরিকার তৈরি নাইন এমএম পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলিভর্তি তিনটি পিস্তল উদ্ধার করে। এছাড়া অভিযানে পুলিশ ২৬ রাউন্ড গ্লক পিস্তলের গুলি, ৩৫ রাউন্ড এম-৪ রাইফেলের গুলি, ৬ রাউন্ড গ্যাসগানের গুলি নিক্ষেপ করে।

দক্ষিণখান থানার ওসি তপন চন্দ্র শাহ যুগান্তরকে বলেন, সিআইডি আলামত সংগ্রহের পর বাড়িটি তালা দিয়ে পুলিশ প্রহরায় রাখা হয়েছে। বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের বাসায় প্রবেশের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূর্যভিলায় এখনও টু-লেট : সোমবার সূর্যভিলা নামের ওই বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির তিনতলায় টু-লেট ঝুলছে। দ্বিতীয়তলায় বেলকনির দড়িতে কাপড় ঝুলে আছে। বাসার প্রবেশপথে সিআইডির ক্রাইম সিনের ফিতা লাগানো। পথসহ বাসার চারদিকেই পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। মূল সড়ক থেকে ওই বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটিও বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। তবে আশপাশের বাসিন্দাদের পরিচয় নিয়ে আসা-যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে পুলিশ।

সূর্যভিলার পাশের বাসার বাসিন্দা নিলুফার ইয়াসমিন যুগান্তরকে বলেন, এই বাসায় এভাবে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়ে বসেছেন কখনও বুঝতে পারিনি। ওই বাসার কোনো মহিলা ও পুরুষের সঙ্গে কখনও দেখা হয়নি। তবে মাঝেমধ্যে একটি গাড়িতে করে কয়েকজন পুরুষ আসত। কয়েক ঘণ্টা পরে ওই গাড়িতে করেই চলে যেত তারা।

About Khan Rezaul

Check Also

বিজিবি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বাহিনী হবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর

Loading... বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তার ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে এগিয়ে যাবে এবং একদিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম …