রাজনৈতিক

বিশ্বব্যাংকের কাছে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশঃ অর্থমন্ত্রী

বিশ্বব্যাংকের কাছে চলতি অর্থবছরে বাজেট এর জন্য সহায়তা হিসেবে আরও ৫০০ মিলিয়ন য (৫০ কোটি) ডলার পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ্বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
রোববার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজারের সঙ্গে বৈঠকে এ ঋণ সহায়তা চেয়েছেন তিনি
রোববার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজারে এর সঙ্গে বৈঠকে এ ঋণ সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে বলান, বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান ও ভবিষ্যতে শুরু হবে, এমন সব প্রকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট সহায়তা হিসেবে আরও কিছু স্বল্প সুদের ঋণ ও চেয়েছেন বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের কাছে।

মুস্তফা কামাল বলেন, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আমরা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছি। চলতি অর্থবছরে আরও ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলার বাজেট সাপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

আজ রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান ও ভবিষ্যতে শুরু হবে, এমন সব প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান। অর্থমন্ত্রী বাজেট সহায়তা হিসেবে আরও কিছু স্বল্প সুদের ঋণ চেয়েছেন বিশ্বব্যাংক এর প্রতিনিধি দলের কাছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আমরা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এক বিলিয়ন (১১০ কোটি) ডলার এর বাজেট সহায়তা পেয়েছি। চলতি অর্থবছরে আরও ৫০০ মিলিয়ন অথবা ৬০০ (৫০ কোটি) ডলার বাজেট সাপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করছি আমরা।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেওয়া প্রকল্পে অর্থায়ন এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে মোট সাড়ে ৪ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা চেয়েছে। যা দেশীয় মুদ্রায় ৪চ৫ হাজার৮৭৫০ কোটি টাকার মতো (প্রতি ডলার ৯৮ টাকা ধরে)। এই প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ প্রথম কিস্তিতে সংস্থাটির কাছে ১৫০ কোটি ডলার চেয়েছে। এই অর্থ বাংলাদেশের প্রায় ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার সমান। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (ফিন্যান্সিয়াল টাইমস) এসব কথা বলেন।

এদিকে আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশকে মোট কী পরিমাণ ঋণ দেওয়া হতে পারে, তা এখনো চূড়ান্ত জানা হয়নি। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে।সামনে জানানো হবে

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানান, বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সিসহ অন্যান্য বহুজাতিক ও দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছ থেকেও ৫০০ কোটি ডলার চাইছে। দাতাদের কাছ থেকে এসব ঋণ পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী বলে ও উল্লেখ করেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বিদেশি ঋণ প্রসঙ্গে কথা বল্লেন। ওয়াং ই ১৮ ঘণ্টার এক সংক্ষিপ্ত সফরে গত শনিবার সন্ধায় ঢাকা আসেন। পদ্রেরদিন রোববার বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সহ ঊর্ধ্বতন সব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে এক বিবৃতিতে চীন নিজেকে ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার’ বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে বলেছে যে উভয় দেশ ‘অবকাঠামোতে সহযোগিতা’জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।

তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের গ্রিন, ও রেসিলিয়েন্স, ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) করে আগামী ২ অর্থবছরে ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলার পাওয়ার প্রত্যাশা করছি আমরা। ২০২৩-২০২৫ সাল মেয়াদে পাইপ লাইনে রয়েছে আরও ৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন (৬১৫ কোটি) ডলারের ঋণ প্রস্তাব।

অর্থনীতিতে কোভিড–১৯ করোনা মহামারির অভিঘাতের পর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক উন্নয়নশীল দেশ চাপে পড়ে গেছে। এর মধ্যে কিছু দেশ বিদেশি ঋণ পরিশোধের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
ক্রমাগত জ্বালানি আমদানি বিল ও জ্বালানি ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রতিদিন বেশ কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও আঘাত লেগেছে অনেক। এর ওপর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৪ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে গেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার
অর্থমন্ত্রী বলেন, জুন ২০২২ থেকে জুন ২০২৫ এর জন্য নির্ধারিত ৯২ বিলিয়ন (৯ হাজার ৩০০ কোটি) ডলারের আইডি এ ২০ সাইকেলকে স্বাগত জানাই। কোভিড ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ উদ্ভুত বিরূপ পরিস্থিতি থেকে আমাদের দেশের অর্থনীতি কে পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের জন্য কনসেশনাল আইডি এ তহবিল থেকে বর্ধিত সহায়তা প্রয়োজন ধরকার।

সার্বভৌম ঋণে খেলাপি হওয়া শ্রীলঙ্কা এখন জরুরি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ঋণ পেতে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা করছে তারা। আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া‍্য পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ৮০০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে ১৩২ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ের ও বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে গত মাসে প্রাথমিক চুক্তি করেছে বলে জানান। পাকিস্তানের হাতে বর্তমানে যে পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র দেড় মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে পাকিস্তান দেশটি।

যা হোক, বিশ্লেষকেরা বলছেন বাংলাদেশের শক্তিশালী রপ্তানি খাত, বিশেষ করে পোশাক বাণিজ্য সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অভিঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের হাতে এখন যে পরিমাণ রিজার্ভ আছে, তা দিয়ে প্রায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে বলে মনে করি।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই ভোগান্তিতে পড়েছে, আমরাও অনেক চাপের মধ্যে আছি।’ তবে শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে নেই। এমন পরিস্থিতির কথা ভাবারও চিন্তার জো নেই।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button